Hajj

২০২৬ সালে আল্লাহর মেহমান হোন হজ্বের ময়দানে

hajj banner

হজ্ব—একটি পবিত্র আহ্বান, যা প্রতিটি সক্ষম মুসলমানের জন্য জীবনে একবার পালন করা ফরজ। এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহর ঘর কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে একনিষ্ঠ ভক্তি ও বিনয়ের সাথে প্রার্থনা করার সৌভাগ্য সবার হয় না। তাই যারা ২০২৬ সালে এই মহান ইবাদত পালনের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

হজ্বের গুরুত্ব ও ফজিলত

হজ্ব ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্ব করে এবং এতে কোনো পাপ বা অন্যায় কাজ না করে, সে সেদিন নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।” (সহিহ বুখারি)

এটি এমন একটি ইবাদত, যেখানে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, সবার পোশাক ও অবস্থান একই। সবাই একসঙ্গে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে, গুনাহ থেকে মুক্তির আবেদন জানায়।

২০২৬ সালের হজ্বের জন্য প্রস্তুতি

১. মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি: হজ্বে যেতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মন থেকে নিয়ত করা। আল্লাহর মেহমান হতে হলে মনকে পবিত্র ও সৎকর্মে অভ্যস্ত করতে হবে।

  1. আর্থিক প্রস্তুতি: হজ্ব একটি ব্যয়বহুল ইবাদত। তাই পরিকল্পিতভাবে অর্থ সঞ্চয় করা প্রয়োজন, যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো সমস্যা না হয়।
  2. শারীরিক সক্ষমতা: হজ্বের সময় প্রচুর হাঁটাহাঁটি করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় ইবাদতে কাটাতে হয়। তাই সুস্থ ও সক্ষম থাকতে হবে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে হজ্বের সময় এটি অনেক সুবিধা দেবে।
  3. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: হজ্ব পালনের জন্য পাসপোর্ট, ভিসা, টিকা কার্ডসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি।
  4. হজ্বের নিয়ম ও করণীয় শিখুন: হজ্বের প্রতিটি স্তর সম্পর্কে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন, যাতে ভুলত্রুটি এড়িয়ে সঠিকভাবে ইবাদত সম্পন্ন করা যায়।

আল্লাহর মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য

যারা হজ্বের ময়দানে পা রাখেন, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমতের অধিকারী হন। এখানে এসে মানুষ তার অতীতের সব গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং একটি নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পায়।

২০২৬ সালের হজ্বের জন্য যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা এখন থেকেই নিয়মিত ইবাদত করুন, কোরআন অধ্যয়ন করুন এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন। আল্লাহ আপনাকে ডেকে নিলে, আপনি নিশ্চিতভাবেই তাঁর মেহমান হতে পারবেন।

উপসংহার

হজ্ব শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির এক মহান সফর। যারা ২০২৬ সালে হজ্ব পালনের নিয়ত করেছেন, তারা এখনই প্রস্তুতি শুরু করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হজ্বের সৌভাগ্য দান করুন এবং আমাদের কৃত ইবাদত কবুল করুন—আমিন।